Title: তাহসিফ হত্যা মামলা: সেই তরুণীকে আবার রিমান্ডে নিতে আবেদন
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তার ঘনিষ্ঠ সেই তরুণীকে (১৯) আবার সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিকেলে রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি হবে বলে তিনি জানান। চার দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই তরুণীকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। গত ১ নভেম্বর তাকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
এর আগে ৩১ অক্টোবর দিবাগত রাত দুইটার সময় ঘনিষ্ঠ সেই তরুণীকে রাজধানীর ইব্রাহিমপুরের একটি বাসা থেকে আটক করে পুলিশ। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায় তাকে। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন, ঘটনার আগে, অর্থাৎ ২৭ অক্টোবর রাতের বেলা তাহসিফের সঙ্গে তিনি উত্তরা নেস্ট বার এন্ড রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলেন। সেখানে স্ন্যাক্স খেয়েছেন। পরে উত্তরা’র বিভিন্ন স্থানে বাইকে করে ঘোরাঘুরি করেছেন। তিনি জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ আরও তথ্য দিয়েছেন; তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তার দেওয়া তথ্য এবং পারিপার্শ্বিক অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এজন্য তাকে আরও ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে সাতটি কারণ উল্লেখ করেছেন, যার ভিত্তিতে ওই তরুণীকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, ঘটনার দিন তাহসিফের সঙ্গে মেয়েটি উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের রুআপ কমপ্লেক্সে সিপি ফাইভ স্টার নামক ফাস্ট ফুডে স্যাক্স খেয়েছেন। এসময় তাদের মধ্যে আবেগপ্রবণ কথাবার্তা বা বাক-বিতন্ডা হয়েছিল কিনা, উত্তরা নেস্ট বার এন্ড রেস্টুরেন্টে তাদের মধ্যে কোন কথা-কাটাকাটি হয়েছিল কিনা, এবং ঘটনার দিন অথবা পূর্বে উভয়ের মধ্যে সম্পর্কের কোনো টানা পোড়ন যাচ্ছিল কিনা, এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। এছাড়া মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, অজ্ঞাতনামা অপর আসামিদের গ্রেপ্তার, আলামত উদ্ধার, এবং আসামি মেয়েটি ও আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের বক্তব্য যাচাই-বাছাই করার জন্য পুনরায় রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বের হওয়ার পর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ নিখোঁজ হন। তার জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি বাসা থেকে বের হন। পরে ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তুরাগ নদে মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পেয়ে টঙ্গী নদী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করেন। হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের সূত্রে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় গত ৩১ অক্টোবর সকালে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে রাজধানীর উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা দাখিল করেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। মামলায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হলেও তাহসিফকে তার জুনিয়র বন্ধু দীপ বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। এই মামলায় দীপকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়। গত মঙ্গলবার দীপকে দ্বিতীয় দফায় তিন দিনের ডিমান্ডে নেওয়া হয়।

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

মতামত