প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬
তাহসিফের মৃত্যু: যেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা
||
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় তাকে ও তার সঙ্গে থাকা বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে কারা ধাওয়া করেছিল—মাদক কারবারি, নাকি পুলিশের সদস্য? সেই রহস্যের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেছেন, টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় অবস্থানের সময় পোশাক পরা দুই পুলিশ সদস্যকে দেখে তাঁরা দুজন দুই দিকে দৌড়ে পালান।
একপর্যায়ে তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন, আর দীপ পালিয়ে যান। তবে দীপের এই বক্তব্যের সত্যতা এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পিবিআইয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন মান্নান জানান, দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি সুজুকি জিক্সার এসএফ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। এটি তাহসিফের মোটরসাইকেল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিআরটিএতে যাচাইয়ের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উত্তরার বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়ে বাসায় ফেরার কথা জানালেও আর ফেরেননি। পরদিন বুধবার বিকেলে উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। সঙ্গে থাকা আইফোনের মাধ্যমে পরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে ভবনের নিচে দীপের সঙ্গে তাঁর দেখা হওয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজ পেয়েছে পিবিআই। ফুটেজে দুজনকে হাত মেলানোর পর আলাদা মোটরসাইকেলে করে চলে যেতে দেখা যায়।
এর সূত্র ধরে গত বৃহস্পতিবার রাতে মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়।
আরও পড়ুনআরও পড়ুনসেই রাতে তরুণীসহ দেড় ঘণ্টা বারে ছিলেন তাহসিফ, সিসিটিভিতে মিলল নতুন তথ্য
শুক্রবার দীপকে সঙ্গে নিয়ে পিবিআইয়ের একটি দল টঙ্গীর মাজার বস্তি ও রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা পরিদর্শন করে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দীপের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের পোশাক পরা দুই ব্যক্তিকে দেখে তাঁরা পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে ওই ব্যক্তিরা কারা ছিলেন, তাঁরা পুলিশের সদস্য ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।
পিবিআই কর্মকর্তাদের ধারণা, মাদক কারবারিদের তৎপরতা অথবা পুলিশের ধাওয়ার মধ্যে পড়ে তাহসিফ নদে ঝাঁপ দিয়ে থাকতে পারেন। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দীপের বক্তব্যেও কিছু অসংগতি রয়েছে, সেগুলো যাচাই করছেন তদন্তকারীরা।
এদিকে তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম বলেছেন, তার ছেলের মৃত্যু আত্মহত্যা নয়। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে নতুন তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যাওয়ার আগে রাজধানীর উত্তরার একটি রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন তিনি।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন এক তরুণী ও ‘জুনিয়র বন্ধু’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ওই তরুণীকে তাহসিফের বান্ধবী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে প্রবেশ করেন তাহসিফ ও তার বান্ধবী। তারা একটি মোটরসাইকেলে সেখানে যান। কিছুক্ষণ পর আরেকটি মোটরসাইকেলে সেখানে পৌঁছান দীপ।
মোটরসাইকেল পার্ক করে তিনজনই রেস্টুরেন্টের ভেতরে প্রবেশ করেন।
অন্য একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তাহসিফ ও তার বান্ধবী লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। এ সময় তারা দীপের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। পরে হেলমেট পরা অবস্থায় দীপ সেখানে পৌঁছালে তিনজন একসঙ্গে বারের লিফটে ওঠেন।
সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থানের পর তারা আবার মোটরসাইকেলে করে বেরিয়ে যান।
তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, পরে তাহসিফ সাউরির বান্ধবীকে তার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর তাহসিফ ও দীপ যান টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায়।
তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে ওই রাতের গতিবিধি, যাতায়াত এবং বিভিন্ন স্থানে তার অবস্থানের তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। তবে এ বিষয়ে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জনতার খবর বংলাদেশ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত